ge7284d1311c7ea75312f4328883051e8883ec9d29dd35950ef041ed8ee84c1f92a19b3780e6cd2244f5b03583609253e 1280 60539

বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী 2026

বাংলাদেশ রেলওয়ের উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় এবং বহুল প্রতীক্ষিত একটি আন্তঃনগর ট্রেনের নাম বুড়িমারী এক্সপ্রেস। ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ও আরামদায়ক যোগাযোগের লক্ষ্যে এই ট্রেনটি চালু করা হয়। বিশেষ করে লালমনিরহাট, পাটগ্রাম এবং বুড়িমারী অঞ্চলের মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে এটি এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

আপনি যদি বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, ট্রেনের ছুটির দিন, টিকিট কাটার নিয়ম এবং ভাড়ার তালিকা জানতে চান, তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য।

বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের ইতিহাস

উত্তরবঙ্গের সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দর। ভারত, ভূটান ও নেপালের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের দাবি ছিল ঢাকা থেকে সরাসরি বুড়িমারী পর্যন্ত একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করার।

  • উদ্বোধনের তারিখ: ২০২৪ সালের ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে “বুড়িমারী এক্সপ্রেস” ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়।
  • যাত্রার সূচনা: প্রথমে এটি ঢাকা থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত চলাচল শুরু করলেও পরবর্তীতে চালুর মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী বুড়িমারী পর্যন্ত চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
  • নামকরণ: বুড়িমারী স্থলবন্দরের নামানুসারে এবং স্থানীয় ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ট্রেনের নামকরণ করে “বুড়িমারী এক্সপ্রেস”।

আধুনিক প্রযুক্তির চায়নিজ লাল-সবুজ কোচ (বগি) দিয়ে এই ট্রেনটি পরিচালনা করা হয়, যা যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করে।

বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী (Train Schedule)

বুড়িমারী এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৮০৯/৮১০) ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে গিয়ে লালমনিরহাট হয়ে বুড়িমারী পৌঁছায় এবং পুনরায় একই রুটে ঢাকায় ফিরে আসে। নিচে এর বর্তমান সময়সূচী দেওয়া হলো:

ঢাকা থেকে বুড়িমারী (ট্রেন নং ৮০৯)

  • ঢাকা ছাড়ার সময়: রাত ৮:৩০ মিনিট।
  • গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়: সকাল ৬:১৫ মিনিট (বুড়িমারী)।

বুড়িমারী থেকে ঢাকা (ট্রেন নং ৮১০)

  • বুড়িমারী ছাড়ার সময়: সন্ধ্যা ৬:০০ মিনিট।
  • ঢাকা পৌঁছানোর সময়: ভোর ৪:১০ মিনিট।

বিঃ দ্রঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের সময়সূচী মাঝে মাঝে বিশেষ কারণে পরিবর্তন হতে পারে। যাত্রা শুরুর আগে সময় পুনর্বার মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (Off Day)

প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের মতো বুড়িমারী এক্সপ্রেসেরও সাপ্তাহিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি অফ-ডে রয়েছে।

  • সাপ্তাহিক বন্ধের দিন: মঙ্গলবার (মঙ্গলবার এই ট্রেনটি চলাচল করে না)।

🚉 বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ

ঢাকা থেকে বুড়িমারী যাওয়ার পথে ট্রেনটি উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রী ওঠানামার সুবিধার্থে এই স্টেশনগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে:

১. ঢাকা (কমলাপুর)

২. বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন

৩. জয়দেবপুর

৪. বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব

৫. শহীদ এম মনসুর আলী (সিরাজগঞ্জ)

৬. নাটোর

৭. সান্তাহার

৮. বগুড়া

৯. গাইবান্ধা

১০. কাউনিয়া

১১. লালমনিরহাট

১২. পাটগ্রাম

১৩. বুড়িমারী

বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা (Ticket Price)

রেলওয়ের আসন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীরা তাদের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী যেকোনো ক্লাসের টিকিট কাটতে পারেন।

(মূল ভাড়ার সাথে দূরত্ব ও ভ্যাট যোগ হতে পারে)

সিটের ধরন / ক্লাসআনুমানিক ভাড়া (টাকা)
শোভন চেয়ার (S_CHAIR)৩৮০ – ৪৫০ টাকা
স্নিগ্ধা (AC Chair)৭৫০ – ৮৫০ টাকা
এসি সিট (AC Seat)৯০০ – ১,০০০ টাকা
এসি বার্থ (AC Berth)১,৩৫০ – ১,৫০০ টাকা

কীভাবে অনলাইনে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের টিকিট কাটবেন?

এখন আর স্টেশনে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় না। আপনি ঘরে বসেই ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটতে পারবেন:

১. বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) বা Shohoz Railway অ্যাপে প্রবেশ করুন। ২. আপনার এনআইডি (NID) এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট লগইন করুন। ৩. From Station-এ Dhaka এবং To Station-এ Burimari (অথবা আপনার গন্তব্য) নির্বাচন করুন। ৪. আপনার ভ্রমণের তারিখ ও আসন শ্রেণি পছন্দ করুন। ৫. বিকাশ, নগদ, রকেট বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। ৬. ই-টিকিট ডাউনলোড করে প্রিন্ট বা মোবাইলে সেভ করে রাখুন।

বুড়িমারী এক্সপ্রেসে ভ্রমণের কিছু দরকারী টিপস

  • অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ: সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে (বৃহস্পতিবার ও শনিবার) টিকিটের চাহিদা বেশি থাকে, তাই ভ্রমণের ১০ দিন আগেই অনলাইন থেকে টিকিট কেটে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
  • নিরাপত্তা ও খাবার: ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিস বা খাবারের ব্যবস্থা থাকে। তবে রাতে ভ্রমণের সময় নিজের মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন।
  • সময়ানুবর্তিতা: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।

শেষ কথা

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় যাতায়াতের জন্য বুড়িমারী এক্সপ্রেস একটি নির্ভরযোগ্য ও সময়বান্ধব মাধ্যম। আপনি যদি ব্যবসার কাজে বা ঘুরতে বুড়িমারী, পাটগ্রাম কিংবা লালমনিরহাট যেতে চান, তবে বুড়িমারী এক্সপ্রেস হতে পারে আপনার ভ্রমণের সেরা সঙ্গী।

বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে বা অভিজ্ঞতা জানাতে নিচে কমেন্ট করুন। আপনার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *